পুঁজিবাজার

সূচক বাড়লেও লেনদেন তলানিতে

  • অর্থবাজার প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত ১৫ ডিসেম্বর ২০২১

সপ্তাহের প্রথম তিন কর্মদিবসে ১৪৬ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট সূচক পতনের পর সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ৩০ পয়েন্ট সূচক বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের মনে স্বস্তি ফেরেনি।

সোমবার আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হওয়ার পরদিন আবার তা হাজার কোটি টাকার বেশি উঠলেও বুধবার তা আবার নেমেছে তলানিতে। কোনো রকমে ৮০০ কোটির ঘর অতিক্রম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এমনিতে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস হলেও সেদিন বিজয় দিবসের সাধারণ ছুটি থাকায় লেনদেন বন্ধ থাকবে।

লেনদেনের শুরুতে সূচক বেড়ে কিছুক্ষণ পর তা আবার কমে গেলে টানা চতুর্থ দিন সূচক পড়ার শঙ্কা জাগে। তবে বেলা ১টার পর থেকে শেয়ারগুলো কিছুটা দর ফিরে পেতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক প্রবণতায় শেষ হয় লেনদেন।

শেষ পর্যন্ত দর হারানো ও দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা দেখা গেছে সমানসংখ্যক। বেড়েছে ১৫৯টির দর, কমেছে ১৫৮টির। ৬০টি কোম্পানি দর ধরে রাখতে পেরেছে।

তবে লেনদেন কমে গেছে ২০ শতাংশ। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১ হাজার ৮০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সেখান থেকে কমে হয়েছে ৮০৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর মূলধন বাড়ানোর ইস্যুতে আবার বেড়েছে এই ধরনের কোম্পানির দর। আগের দিন দরপতন হয়েছে, এমন কিছু কোম্পানি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে সূচক বাড়ানোর প্রধান ভূমিকায় এসব কোম্পানি কখনও প্রভাব রাখে না। ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর পাশাপাশি টানা দর সংশোধনে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডসহ বেশ কিছু কোম্পানির ইতিবাচক প্রবণতায় সূচকের পতন থেমেছে এবার।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর দর বৃদ্ধির কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৭ দশমিক ৮ পয়েন্ট। বেক্সিমকোর কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৬ দশমিক ৮ পয়েন্ট।

এ ছাড়া বেক্সিমকো ফার্মা, ইউনিলিভার, স্কয়ার ফার্মা, রেকিট বেনকিজার, গ্রামীণফোন, ডেল্টা লাইফ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও বিএসআরএম লিমিটেডও সূচকে যোগ করেছে বেশ কিছু পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে ১০টি কোম্পানিই সূচক বাড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে এই কোম্পানির ভূমিকাই ছিল প্রধান।

এর বিপরীতে রবি, ওয়ালটন, ব্র্যাক ব্যাংক, ইউনাইটেড পাওয়ার, পাওয়ারগ্রিড, তিতাস গ্যাস, কাট্টালী টেক্সটাইল, ডেসকো, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, আইসিবির মতো কোম্পানিগুলো সূচক কিছুটা টেনে ধরেছে।

এই ১০টি কোম্পানি মিলিয়ে সূচক কমিয়েছে ১৩ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট।

বিবিধ, ওষুধ ও রসায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তুলনামূলক ভালো দিন গেছে। প্রধান অন্য খাতগুলোর মধ্যে বেশির ভাগেই দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা।

বেশ কিছুদিন পর বেক্সিমকো লিমেটেডে আগ্রহ বাড়ার পর লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে বিবিধ খাত। দুই সপ্তাহের মধ্যে এক দিন ছাড়া প্রতিদিন শীর্ষে থাকা ব্যাংক খাত নেমে এসেছে তৃতীয় অবস্থানে। দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে ওষুধ ও রসায়ন খাত।

আগের দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি আদেশ এসেছে, যার দুটি ব্যাখ্যা করা যায়। ব্যাংকগুলোয় করোনার সময় বিশেষ সুবিধাগ্রাপ্ত ঋণগুলোর জন্য অতিরিক্ত ২ শতাংশ সঞ্চিতি সংরক্ষণের আদেশ দেয়া হয়েছে। এর ফলে তাদের চূড়ান্ত আয় কমে যেতে পারে। আবার এমনও একটি সুযোগ দেয়া হয়েছে, যাকে ইতিবাচক হিসেবেও দেখা যায়। কিস্তির ২৫ শতাংশ জমা দিলেও সুদকে ব্যালান্স শিটে দেখানো যাবে। ফলে এটা ইতিবাচকও হতে পারে।

এই নির্দেশের পর বিনিয়োগকারীরা যে কিছুটা বিভ্রান্ত, সেটি দেখা গেছে লেনদেনে। দর বৃদ্ধি ও কমার হারও খুব একটা বেশি ছিল না। তবে নতুন করে এই খাতে বিনিয়োগে যেতে চাননি বিনিয়োগকারীরা। ফলে কমেছে লেনদেন।

আরও পড়ুন



Arthobazar